ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলজেরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস ও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।


আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমিরাতের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে এমন কিছু ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ কর্মকাণ্ড করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য আর গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালানোর পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট ঘটনা বা কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিবৃতিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।


এ সিদ্ধান্তের পর আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আলজেরিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজেরীয় কর্তৃপক্ষ।


কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি আমিরাতের নিবন্ধিত বেসামরিক ও সামরিক উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে আলজেরিয়া। তবে চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমিরাতের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোকে সাময়িকভাবে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।


অন্যদিকে, আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা কোনো কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তকে সাময়িক হিসেবে দেখার আশা করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আবুধাবি।


দুই দেশের সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। আমিরাত পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, অন্যদিকে আলজেরিয়া ওই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিদার পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের নীতিগত অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে।


আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুনে এর আগেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকার কথা বললেও একটি দেশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ করেছিলেন। যদিও তখন তিনি দেশটির নাম প্রকাশ্যে বলেননি, সেই বক্তব্যকে আমিরাতকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর আফ্রিকা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন করে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম সাহারা, সাহেল অঞ্চল এবং বৃহত্তর আরব ভূরাজনীতিতে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page